বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে বিদায়ী বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বক্তব্যের সময় কয়েক দফা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একই সঙ্গে দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বক্তব্যের শুরুতেই মির্জা ফখরুল তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। একই সঙ্গে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিএনপিতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল হয়ে থাকলে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান ফখরুল। তিনি বলেন, দল তাকে যে সম্মান ও দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করবেন না।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বঙ্গভবনে গেলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ ও সহকর্মীদের তিনি মিস করবেন বলেও আবেগঘন বক্তব্যে উল্লেখ করেন ফখরুল। এ সময় তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের কাছে ভোট ও দোয়া চান।সভায় উপস্থিত কয়েকজন সংসদ সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের কয়েক মিনিটের মধ্যেই একাধিকবার কান্নায় ভেঙে পড়েন ফখরুল। তার আবেগে সভাকক্ষের পরিবেশও ভারী হয়ে ওঠে।
পরে বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দলের কঠিন সময়ে তিনি সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ফখরুলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান। একই সঙ্গে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও এমপিদের সতর্ক করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হওয়ায় চ্যালেঞ্জ বাড়বে। তাই সংসদ সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের দূরত্ব তৈরি হলে তা দ্রুত কমাতে হবে।দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিপরীতে কেউ যাতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে না নামেন, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী করার ওপর গুরুত্ব দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।











