কলকাতায় হোটেল ‘শিখা ইন’-এ ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যে ৯ জন প্রান হারিয়েছেন তাদের মধ্যে একজন সাভার উপজেলার আমিন বাজারের বেগুন বাড়ি গ্রামের মৃত আদম আলীর ছেলে আহমেদ বাবু। পেশায় তিনি একজন কসমেটিকস ব্যবসায়ী,আমিন বাজার জমিদার মার্কেটে কিউট কসমেটিকস নামের একটি দোকানের স্বত্বাধিকারী।
সদা হাস্যজ্জোল পরোপকারী বাবুর আকস্মিক ও নির্মম এই ঘটনায় পরিবারসহ পুরো আমিন বাজারবাসী শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে, সকলের চোখে মুখে শোকের ছায়া।
দীর্ঘ দুই বছর ভারতের ভিসা বন্ধ থাকার কারণে তিনি ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে যেতে পারেননি। গত সোমবার রাতে ব্যবসায়িক মালামাল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি এবং বুধবার বাংলাদেশ ফেরার কথা ছিলো বলে জানিয়েছে তার বন্ধু ফিরোজ। তবে তিনি আসবেন জীবিত নয় কফিন বন্দী হয়ে এ কথা বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তার বন্ধু ফিরোজ।
ডেইলী মীররে কর্মরত সাংবাদিক মোঃ ইব্রাহীম হোসেন তার এই বাল্য বন্ধুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেন, গতরাতে (মংগলবার দিবাগত রাত) আমার সাথে দুইবার কথা বলেছে, কথা শেষ করে একটু পড়ে আবারও আমাকে ফোন দিয়েছিলেো কিন্তু ব্যাস্ততার কারণে ওর ফোনটা আমি আর ধরতে না পেরে পরে আমি আবার কল ব্যাক করলে বাবু আর ফোন ধরেনি, আবেগ আপ্লূত হয়ে তিনি বলেন ওর সাথে আমার শেষ কথাটা আর বলা হলোনা।
আহমেদ বাবুর অকাল মৃত্যুতে বেগুনবাড়ির বাড়িতে এখন চলছে কান্নার রোল। তিনি পেছনে ফেলে গেছেন ৯ বছরের এক মেয়ে এবং মাত্র ৪ বছরের এক অবুঝ শিশুসন্তানকে, যারা এখনও বুঝে উঠতে পারছে না তাদের বাবার আর কখনোই ফেরা হবে না।
গতকাল দুপুরে ভারতীয় হাই কমিশন থেকে সরাসরি ফোন করে পরিবারের কাছে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও তার মৃত্যুর বার্তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হাই কমিশন থেকে পাঠানো ছবি দেখেই স্বজনরা নিশ্চিত করেন যে ছবিটি আহমেদ বাবুর।
যে আশায় বহু দিন পর তিনি সীমান্ত পেরিয়েছিলেন, সেই পথ দিয়েই এখন ফিরবে তার নিথর দেহ। একজন উদ্যমী ব্যবসায়ী ও স্নেহশীল পিতাকে হারিয়ে পুরো আমিনবাজার এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।













