মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় বালু মাফিয়া চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলন কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারসংলগ্ন যমুনা নদীতে ছয়টি অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে শতাধিক বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোড করছে চক্রের সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে কয়েক শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরপরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।
একজন সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে কয়েক লাখ টাকার অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি ওই অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সংশ্লিষ্টরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওই গণমাধ্যমকর্মী আরও অভিযোগ করেন, তিনি ও অন্যরা বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করলে প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী তথ্যদাতাদের নাম ও মোবাইল নম্বরসহ তথ্য বালু মাফিয়া চক্রের সদস্যদের কাছে ফাঁস করে দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে,কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে কোনো তথ্য প্রদান কারীর তথ্য অপরাধীদের কাছে ফাঁস করলে তা গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
শিবালয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে সর্বোচ্চ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা দেওয়ার পরও জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় কীভাবে ছয়টি ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও শতাধিক বাল্কহেডে বালু পরিবহন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নদীভাঙন ও জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
















