চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তিন সন্তানের জননী কনিকা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে একজন মায়ের অকাল মৃত্যু হয়েছে এবং তার সন্তানদের একজন মায়ের মুখ দেখার সুযোগও পায়নি।
শুক্রবার সকালে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামে কনিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি এবং ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। কনিকা রানীর মৃত্যুর ঘটনায় যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এরই মধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কনিকার পরিবারের পাশে সরকার থাকবে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকেও পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও পরিবারটির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ জুন। ফরিদপুরের সমরিতা হাসপাতালে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের মাধ্যমে সিজারিয়ান অপারেশনে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বালিয়াকান্দির বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মণ্ডলের স্ত্রী কনিকা মণ্ডল। অপারেশনের পরদিন তার পেট ফুলে যায়।
অবস্থার অবনতি হলে ৩ জুলাই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই করা পরীক্ষায় তার পেটে গজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। একই দিন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গজটি বের করা হয়।
এরপর দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে ঢাকার কল্যাণপুরের হাসপাতালে মারা যান ৩৫ বছর বয়সী কনিকা। তার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।











