অনলাইন প্রতারণায় গুগলের ফায়ারবেস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের তথ্য পাওয়ার পর শতাধিক অ্যাকাউন্ট ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গুগলকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
দেশটির সাইবার অপরাধ দমনকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (আই৪সি) আগস্ট মাসে অন্তত ৫৭টি ওয়েবসাইট ও ডেটাবেস বন্ধের জন্য গুগলের কাছে নোটিশ পাঠিয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
ভারতীয় কর্মকর্তাদের তদন্তে দেখা গেছে, প্রতারকরা ফায়ারবেস ব্যবহার করে দেশটির বিভিন্ন বড় ব্যাংকের পরিচয় নকল করে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করছিল। এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে অর্থের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়।
আই৪সি আগস্টে গুগলকে তিন দফায় নোটিশ পাঠায়। এসব নোটিশে ফায়ারবেসে থাকা ৫৭টি ওয়েবসাইট ও ডেটাবেস দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ছড়ানো এবং ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোন থেকে আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
১৭ আগস্টের একটি নোটিশে বিশেষভাবে বলা হয়, ক্ষতিকর অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যারকে বৈধ ব্যাংকিং অ্যাপের আদলে উপস্থাপন করে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। নতুন ক্রেডিট কার্ড, পুরস্কার কিংবা ঋণের সীমা বাড়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের এসব অ্যাপ ডাউনলোড করানো হতো।
তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ গুগল বা ফায়ারবেসকে সরাসরি প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত করেনি। বরং নোটিশ পাওয়ার পর নির্দিষ্ট লিংক দ্রুত সরিয়ে ফেলার জন্য গুগলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুগল জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্ম ফিশিং, ক্ষতিকর সফটওয়্যার কিংবা আর্থিক প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি সেগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভারতের কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্পের নাম ব্যবহার করেও প্রতারণা চালানো হয়েছে। প্রকল্পের অর্থ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কৃষকদের একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে বলা হতো। পরে অ্যাপটি ব্যবহারকারীর তথ্য প্রতারকদের নিয়ন্ত্রিত ফায়ারবেস ডেটাবেসে পাঠিয়ে দিত।
সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, এসব ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করে প্রতারকরা মোবাইলের অন্য অ্যাপেও প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এ ধরনের ম্যালওয়্যারকে ‘অ্যান্ড্রয়েড গড মোড’ নামে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বন্ধের নির্দেশ পাওয়া ৫৭টি সাইটের মধ্যে সাতটি ছিল ভারতের বড় ব্যাংকের নামে তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট। এগুলোর মধ্যে স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, আইসিআইসিআই ব্যাংক ও অ্যাক্সিস ব্যাংকের নাম ব্যবহার করা হয়েছিল। অন্য সাইটগুলো থেকে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অনলাইন প্রতারণার কারণে ভারতে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটিতে ডিজিটাল লেনদেন দ্রুত বাড়তে থাকায় সাইবার প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে।














