একটি স্বপ্ন, পরিবারের একটু স্বচ্ছলতা আর ভালো থাকার আকুতি নিয়ে সীমান্তে পাড়ি দিয়েছিলেন সাভারের আমিন বাজার বেগুন বাড়ির আহমেদ বাবু।
কিন্তু কে জানত, প্রবাসের সেই রঙিন স্বপ্নই হবে তার জীবনের শেষ অধ্যায়? কলকাতার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো তরুণ আহমেদ বাবুর নিথর দেহ যখন আমিনবাজারে পৌঁছাল, তখন পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে এক নিস্তব্ধ হাহাকার।
অশ্রুসজল চোখে, ভেজা বাতাসে স্বজন আর সহসেবীদের কান্নায় বিদায় জানানো হলো প্রিয় মুখটিকে।
শনিবার দিবাগত ভোর রাতে নিহত বাবুর কফিনবন্দি দেহ আমিনবাজারে এসে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সন্তানহারা মায়ের আহাজারি আর স্বজনদের আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। শৈশবের খেলার মাঠ, চেনা পথঘাট আর পরিচিত মানুষদের ফেলে আহমেদ বাবু চলে গেলেন না-ফেরার দেশে। তাকে শেষবারের মতো দেখতে ঢল নামে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের। অশ্রুসজল চোখে প্রতিবেশীরা জানান, শান্ত ও পরিশ্রমি ছেলে হিসেবে বাবুর সুনাম ছিল পুরো এলাকায়।
স্থানীয় হিজলা পাচ মসজিদ বালুর মাঠে জানাজা শেষে আমিন বাজার কেন্দ্রীয় (বরদেশী) কবরস্থানে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। প্রবাসের আগুন শুধু একজন মানুষকে কেড়ে নেয়নি, নিভিয়ে দিয়েছে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও। কান্নাভেজা চোখে এলাকাবাসীর একটাই প্রার্থনা—ওপারে ভালো থেকো বাবু।

















