সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বেশিরভাগ সদস্যই ক্ষমতাচ্যুত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তাদের অনেকের নামেই মামলা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা এখনও গ্রেপ্তার না হয়ে বহাল তবিয়তে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আন্দোলনের সময় মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও এসব ইউপি সদস্য অবাধে চলাফেরা করছেন। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির একটি প্রভাবশালীদের সঙ্গে আঁতাত ও সমঝোতা করে তারা নিয়মিত বিএনপির নানা মিছিলে-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করছেন। আওয়ামী আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হওয়া সাধারণ নেতাকর্মীদের চোখেই এখন এসব আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যরা বিএনপির পতাকা তলে সমবেত হচ্ছেন।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলের নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিএনপিতে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছেন।
বিরুলিয়ার মাঠপর্যায়ের একাধিক ক্ষুব্ধ নেতাকর্মী জানান,”বিগত ১৭টি বছর আমরা এই সাভারের মাটিতে আওয়ামী লীগের ক্যাডার ও ইউপি সদস্যদের হামলা,মিথ্যা মামলা এবং অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমাদের বাড়িঘর ছেড়ে ফেরারি জীবন কাটাতে হয়েছে। অথচ আজ সেই নির্যাতনকারীরাই বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে পদ-পদবি বাগিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে এবং প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটি শহীদদের রক্ত ও তৃণমূলের আত্মত্যাগের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও এলাকার সচেতন মহলের মতে,অতি দ্রুত যদি অনুপ্রবেশের এই প্রবণতা বন্ধ করা না হয় এবং অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হয়,তবে ভবিষ্যতে স্থানীয় বিএনপিতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিএনপির হাই কমান্ড ও কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত শীর্ষ নীতি-নির্ধারকদের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিরুলিয়া ইউনিয়নের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তাদের স্পষ্ট বার্তা—নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দোসর ও সুবিধাভোগীদের দল থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার এবং প্রতিহত করতে হবে। সময় থাকতে এখনই সতর্ক না হলে সামনে আরও ভয়াবহ রাজনৈতিক মাশুল গুনতে হবে বলে মনে করেন স্থানীয় বিএনপির তৃণমূলের নেতা কর্মীরা।












