পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নসংলগ্ন পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে আইনকানুন তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। একাধিক ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে বালু তুলে বাল্কহেডে পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, অস্ত্রধারীদের পাহারায় পরিচালিত হচ্ছে এই বালু লুট ও পরিবহন কার্যক্রম।
১৭, ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে অনুসন্ধানে চরতারাপুর, কলাবাগান, নিউচর পূর্বপাড়া ও বেলতলা পয়েন্টসহ পদ্মার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ড্রেজার এবং বিপুলসংখ্যক বাল্কহেডের চলাচল দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, জোতকাকুরিয়া, গোহাইলবাড়ী মৌজা, ভাদুরিয়াডাঙ্গী, চর ভবানীপুর ও চরতারাপুর সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই তৎপরতা চলছে। অনুসন্ধানের সময় দুটি স্পিডবোটে সশস্ত্র ব্যক্তিদের অবস্থানও প্রত্যক্ষ করা গেছে। ফলে দুর্গম চরাঞ্চলে সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী রেঞ্জ নৌপুলিশ ও পাবনা জেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও তা শেষ হতে না হতেই ফের সক্রিয় হয় বালুখেকোরা। নদীর ওপর নজরদারি শুরুর আগেই অভিযানের খবর চক্রটির কাছে পৌঁছে যায় বলে গুঞ্জন রয়েছে। এতে অভিযানের তথ্য ফাঁস হওয়ার বিষয়টির পাশাপাশি প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী অনুমোদনহীন বালু উত্তোলন দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও পদ্মায় এই কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর কোনো স্থায়ী পদক্ষে দেখা যাচ্ছে না। ফলে নদীভাঙন, কৃষিজমি বিনষ্ট ও গতিপথ পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে পড়েছে পুরো জনপদ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নদীভাঙন ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা নিশ্চিত করতে এই সশস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে দ্রত কঠোর আইনি পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় এখন পাবনাবাসী।




















