মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশনা এবং বারবার প্রশাসনের অভিযানের পরও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনার দুর্গম আলোকদিয়া চরে বন্ধ হয়নি অবৈধ বালু উত্তোলন। উল্টো জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর পাওয়ার টাওয়ারের একেবারে বিপজ্জনক সীমানায় প্রকাশ্যে ৮টি ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। প্রতিদিন অন্তত শতাধিক বাল্কহেডের মাধ্যমে এসব বালু পরিবহন করায় চরম ঝুঁকিতে পড়েছে জাতীয় সঞ্চালন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ টাওয়ারগুলো।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারসংলগ্ন নদী এলাকায় অবাধে চলছে একাধিক ড্রেজার। নদী থেকে বালু তুলে সরাসরি বাল্কহেডে লোড করা হচ্ছে এবং একের পর এক বাল্কহেড বালু নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এই চরকে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালু সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে একটি প্রভাবশালী চক্র। অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলনস্থল পাহারায় রাখা হয়েছে ‘শাহআলম বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি সশস্ত্র গ্রুপকে, যারা যেকোনো প্রতিবাদ প্রতিরোধে তৎপর থাকে। তবে তাদের সশস্ত্র উপস্থিতির বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কেপিআই (KPI) স্থাপনার এত কাছে নদী তলদেশ থেকে নিয়মিত বালু তোলায় টাওয়ারগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এত বড় ঝুঁকির পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে এক সহকারী কমিশনার জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতোমধ্যে সেখানে একাধিকবার অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কেও জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হবে।
প্রশাসনের এই দাবির পর স্থানীয় সচেতন মহলে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—যদি বারবার অভিযানই চালানো হয়ে থাকে, তবে হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও একই জায়গায় একযোগে এতগুলো ড্রেজার কীভাবে সক্রিয় থাকে?
এলাকাবাসীর দাবি, জাতীয় সম্পদ রক্ষায় অবিলম্বে ড্রেজার ও বাল্কহেডগুলোর বৈধতা যাচাই, সশস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কারো গাফিলতি রয়েছে কি না—তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখতে হবে।














