মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা, সরকারি নির্দেশ এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন তোয়াক্কা না করেই মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় যমুনা নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান ও নজরদারির খবর আগেই পেয়ে সটকে পড়ে একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র চক্র, ফলে থামানো যাচ্ছে না এ নদীভাঙন সৃষ্টিকারী তাণ্ডব।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) সকালে আলোকদিয়ার চর এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের কাছে যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত আটটি ড্রেজার বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব উত্তোলিত বালু তাৎক্ষণিকভাবে বাল্কহেডে করে বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছে চক্রটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যমুনা নদীর ৭ ও ৮ নম্বর জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ টাওয়ার, লোকালয় এবং ফসলি জমির অতি কাছে ড্রেজার চালানো হচ্ছে। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। দ্রুত তীরের মাটি ধসে শত শত বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো নদীভাঙনের মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, ‘শাহআলম বাহিনী’ নামে স্থানীয় একটি সশস্ত্র চক্রের পাহারায় এ অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বালু খেকোদের দমনে স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম নবীসহ এলাকাবাসী মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে কোনো স্থায়ী প্রতিকার না পেয়ে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন।
উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) আলোকদিয়া চরে অবৈধ বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তবে আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ সত্ত্বেও বাস্তবে বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি, যা মাঠ প্রশাসনের আদেশ বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে।
উপজেলা প্রশাসনের অভিযান সম্পর্কে স্থানীয়রা জানান, শিবালয় উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে নদীতে অভিযান পরিচালনা করলেও সেই তথ্য আগেই বালু দস্যুদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে অভিযানকারী দল পৌঁছানোর আগেই তারা ড্রেজার সরিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। এতে অধিকাংশ অভিযানই দৃশ্যমান ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়।
একইভাবে নৌপুলিশের তদারকি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দিনে-দুপুরে নদীপথে একাধিক ড্রেজার চললেও নৌপুলিশের কার্যকর কোনো নজরদারি দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর জোন নৌপুলিশের এসপি রবিউল ইসলামের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্য ড্রেজার চলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এলাকাবাসী এখন জাতীয় গ্রিডের অবকাঠামো রক্ষা ও নদীভাঙন রোধে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।


















