সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা-সংলগ্ন যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় তীব্র নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে নদীতীরবর্তী বসতভিটা,কৃষিজমি ও সরকারি-বেসরকারি নানা অবকাঠামো।
গত ৯ থেকে ১২ অক্টোবর সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, স্থানীয় পরিচিত ‘তিন কানার মোড়’ এবং নাগরপুরের সলিমাবাদ ইউনিয়নের লিছিনদপুর-সংলগ্ন চরাঞ্চলে ড্রেজার বসিয়ে ধারাবাহিকভাবে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মোল্লার নেতৃত্বে একটি মহল এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। প্রভাবশালী চক্রের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছে না বলেও জানান স্থানীয়রা।
ভাঙনপ্রবণ এই অঞ্চলে অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আইন থাকলেও বাস্তবে তা প্রয়োগে প্রশাসনিক শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মোল্লা। তিনি বলেন, “অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে এর সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে থাকার কারণে একটি মহল উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানোর চেষ্টা করছে।”
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। নাগরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, সীমান্তসংলগ্ন যমুনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। খুব দ্রুতই নদী এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
একই আশ্বাস দিয়ে চৌহালীর ইউএনও মো. মেহেদী হাসান সাকিল জানান, বালু তোলার বিষয়টি সম্পর্কে প্রশাসন অবগত আছে এবং নদী ও জনপদ রক্ষায় দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এছাড়া,যমুনা নদী ও সংলগ্ন জনপদ রক্ষা করতে বালু মহালের বৈধ ইজারা ও প্রশাসনিক নথি সঠিকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোনো প্রকার অনিয়ম পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা। প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান ভুক্তভোগী চরাঞ্চলবাসী।













