সর্বশেষ

মৎস্য ও কৃষিতে রপ্তানি বাড়াতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে: মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের মৎস্য ও কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিকল্প নেই। এ জন্য শিক্ষার্থীদের প্রচলিত জ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন উদ্ভাবন ও গবেষণায় মনোনিবেশ করতে হবে।

আজ বিকেলে চাঁদপুরের মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটে মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে আজকের শিক্ষার্থীরা। তাদের হাত ধরেই দেশ আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর হয়ে উঠবে। তাই বর্তমান প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। পূর্ববর্তী প্রজন্মের অর্জন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও সুন্দর দেশ গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একসময় পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা শিক্ষক হওয়ার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেত। তবে বর্তমানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব খাতে শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করা সম্ভব। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণদের দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও বাস্তবভিত্তিক যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

মন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি গবেষণালব্ধ জ্ঞান মাঠপর্যায়ে প্রয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মৎস্যপণ্য রপ্তানি বাড়ানোরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি সম্প্রসারণে শুধু প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল থাকলে চলবে না। পরিকল্পিত উৎপাদন, উন্নত জাত উদ্ভাবন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে কীটনাশকসহ বিভিন্ন রাসায়নিকের ব্যবহারের প্রভাব নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই এসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

গবেষণায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এসব খাতে মেধাবী ও আগ্রহী তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে নিবন্ধন শুরু, আবেদন চলবে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত

মৎস্য ও কৃষি খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা সম্ভব।

এ সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বাবুল কৃষ্ণা ওঝা, মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি. এম. মোস্তফা কামালসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের নদী কেন্দ্র চাঁদপুর পরিদর্শন করেন এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
১৩ অক্টোবর ২০২৬
Trulli

মৎস্য ও কৃষিতে রপ্তানি বাড়াতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দিতে হবে: মন্ত্রী