ঢাকার সাভার উপজেলা ও আশুলিয়া এলাকার বিভিন্ন বাজার ও জনবসতিপূর্ণ স্থানে নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র গরু, মহিষ ও ছাগল জবাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত জবাইখানা (স্লটার হাউজ) এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পশু জবাই করায় একদিকে যেমন মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটছে, অন্যদিকে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ক্রেতা-বিক্রেতারা।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ,সাভারের বিভিন্ন অলিগলি,বাজার এবং আবাসিক এলাকার কাছাকাছি অপরিকল্পিতভাবে পশু জবাই করা হচ্ছে। জবাইয়ের পর পশুর রক্ত, নাড়িভুঁড়ি, হাড় ও অন্যান্য বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখায় পচে গিয়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এর ফলে বাতাসে রোগজীবাণু ছড়ানোর পাশাপাশি পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো,অনেক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ভেটেরিনারি চিকিৎসকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অসুস্থ বা অস্বাস্থ্যকর পশু জবাই করে বাজারে তা সাধারণ মানুষের মাঝে বিক্রি করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন,পশু জবাইয়ের আগে চিকিৎসকের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জবাই-পরবর্তী বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি কেন নেই? দায়িত্বশীল মহলের এমন দায়সারা ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ভেটেরিনারি সার্জন ডা.মো.মাসুম বিল্লাহ মেরাজ বলেন,”পশু জবাইয়ের আগে অবশ্যই ভেটেরিনারি চিকিৎসকের মাধ্যমে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করলে তা থেকে মানুষের শরীরে অ্যানথ্রাক্স, যক্ষ্মা কিংবা খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়াতে পারে। এছাড়া নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না করলে তা পুরো পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।”
আইনজীবীরা বলছেন, প্রচলিত ‘পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন’ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও বিধিবিধান লঙ্ঘন করে যত্রতত্র পশু জবাই করা এবং মানহীন মাংস বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের কঠোর বিধান রয়েছে। তবে আইনের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগ না থাকায় এই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদীদের দাবি, দ্রুত সাভার ও আশুলিয়ার প্রতিটি এলাকায় নির্দিষ্ট এবং স্বাস্থ্যসম্মত জবাইখানা (স্লটার হাউজ) স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যত্রতত্র পশু জবাই ও অস্বাস্থ্যকর মাংস বিক্রি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

















