সর্বশেষ

যমুনা নদীতে”সালাম”বাহিনী’র সক্রিয় চাঁদাবাজি:সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

মো.এনামুল হক(আবির)- বিষেশ প্রতিনিধি

যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলজুড়ে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে কথিত ‘সালাম বাহিনী’ নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। টাঙ্গাইল সদর, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার বিস্তীর্ণ নদীপথে চলাচলকারী নৌযান মালিক, মাঝি ও শ্রমিকদের দাবি—দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের ভয়ে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,নদীপথে চলাচলকারী বালুবাহী,মালবাহী ও যাত্রীবাহী নৌযানকে লক্ষ্য করে জোরপূর্বক ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হামলা, লুটপাট, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা, অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চর পুংলি,পানাকুড়া,কাকুয়া, গোয়লা হোসেন, আর গোয়লা, দীপু গোয়ালা, জিদাও,ডেইকা বাড়ি,কান্দিপাড়া ও কালিবাটিন মৌজাসহ বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে নৌপথ ব্যবহারকারীদের মধ্যে আতঙ্কের চিত্র উঠে আসে। স্থানীয়দের দাবি,গোয়লা হোসেন ও জিদাও এলাকার মধ্যবর্তী নদীপথ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।
একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে বেলকুচি উপজেলার মেহেরনগর, চরবেল, খিদ্রচাপড়ি,রানদানপুর,বারবালা,সেটেল চর ও মহেশপুর এলাকাতেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নৌযান মালিক,মাঝি ও শ্রমিক জানান,কথিত সালাম বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে নদীপথে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। তাদের অভিযোগ, চক্রটির সদস্যরা সংঘবদ্ধভাবে নদীপথ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
অভিযোগে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানতে চাইলে কথিত বাহিনীর প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম মুঠোফোনে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

পাবনা-৫ আসন ও কুঠিপাড়ার ঐতিহ্য: গণমানুষের নেতা এ্যাড.শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের শেকড় ও পথচলা

অন্যদিকে,যমুনা তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দা ও নৌপথ ব্যবহারকারীরা গণমাধ্যমকে জানান, নদীপথে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন নয়। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তিনি আগে বিষয়টি শোনেননি। তবে অভিযোগ যেহেতু উঠেছে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাবেন।

তিনি বলেন,যমুনার নৌপথে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি,সন্ত্রাস বা অপরাধ বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের মতে,যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে নিয়মিত নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড,র‍্যাব ও জেলা পুলিশের যৌথ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা টহল চালু করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় নদীপথে ব্যবসা-বাণিজ্য,পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের জানমাল জীবনযাত্রা নিরাপদ চলাচল আরও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সচেতন মহল মনে করেন।

ধামসোনার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার পদপ্রার্থী ফারুক খন্দকারের নির্বাচনী প্রচারণা, র‍্যালি ও লিফলেট বিতরণ

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০৪ আগস্ট ২০২৬
Trulli

যমুনা নদীতে”সালাম”বাহিনী’র সক্রিয় চাঁদাবাজি:সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি