দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।তার দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের সময় দেশের গ্যাস খাত ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর হয়ে ওঠে। এর প্রভাব এখনকার জ্বালানি সংকটে দেখা যাচ্ছে। ফলে পুরো পরিস্থিতির দায় বর্তমান সরকারের ওপর দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।
বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন তিনি।তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়।গ্যাসের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনে পড়ে বলেও জানান তিনি। এর কারণে গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং বেড়েছে এবং ঢাকাতেও কয়েক দিন বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা গেছে।এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
বর্তমান সরকারের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে সামাল দেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়।তিনি বলেন, শুধু আগের সরকারকে দায়ী না করে বর্তমান বাস্তবতার ভিত্তিতে সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।বাংলাদেশের গ্যাসের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্ভরতা দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল।জ্বালানি সংকট যে শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বিশ্বজুড়েই গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে—এ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।জাহেদ উর রহমানের মতে, সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যেসব দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলোর সুফল পেতে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।










