সর্বশেষ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই:চরাঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়নের আকুতি চরবাসীর

মোঃ মাইনুল ইসলাম

মাইনুল ইসলাম,চর এলাকা থেকে ফিরে: নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া, আবারও নতুন কোনো চরে পলি জমার পর নতুন করে ঘর বাঁধার চেষ্টা—বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছর পরও এ যেন চরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের এক চিরন্তন ও করুণ জীবনচিত্র। প্রতি বছর বর্ষা এলেই পদ্মা, মেঘনা,যমুনা,ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তাসহ দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর বুক গ্রাস করে নেয় চরাঞ্চলের শত শত বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও মানুষের স্বপ্ন।

​চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়,নদীভাঙনের নিষ্ঠুর থাবায় প্রতি বছর একেকটি চরে গড়ে ২০০ থেকে ৭০০ বিঘা কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। শুধু উর্বর কৃষিজমিই নয়,নদীভাঙনে মুহূর্তে বিলীন হয়ে যায় শত বছরের পুরোনো ঘরবাড়ি,গাছপালা ও চলাচলের মাটির রাস্তা। একবার এক পার ভাঙলে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব চরবাসীকে আশ্রয় নিতে হয় অন্য পারের নতুন কোনো জেগে ওঠা চরে। বছরের পর বছর ধরে এভাবে এক ঠাঁই থেকে অন্য ঠাঁইয়ে ঘুরে বেড়ানোই তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান,নদীভাঙন যদি রোধ বা হ্রাস করা যেত,তবে হাজার হাজার একর কৃষিজমি রক্ষা পেত,যা দেশের সার্বিক কৃষি উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখত। শুধু তা-ই নয়,স্থায়ী সড়ক ও বাঁধ তৈরি হলে শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হতো এবং স্থানীয় হাট-বাজারে কৃষিপণ্য পরিবহনে এক অভাবনীয় পরিবর্তন আসত। অবসান হতো চিকিৎসার অভাবে বিনা চিকিৎসায় প্রাণ হারানোর মতো নির্মম অভিজ্ঞতার।

বিরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মনিরুল হকের নেতৃত্বে ফ্যাসিস্ট চক্রান্ত ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে: জিয়া পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল

​চরবাসীর অভিযোগ,স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পার হলেও দেশের সার্বিক উন্নয়নের ছোঁয়া চরাঞ্চলে সেই অর্থে পৌঁছায়নি। স্থায়ী বাঁধ ও নদী শাসনের অভাবে এখনো চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটান তারা। তবে তাদের দাবি খুব বেশি নয়—তারা ত্রাণ চান না, চান চরের নদীভাঙন রোধ ও স্থায়ী উন্নয়ন।

​চরবাসীর সুরেই আজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—“চর বাঁচলে জমি বাঁচবে, জমি বাঁচলে কৃষক বাঁচবে—আর চরাঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়ন হলেই প্রকৃতপক্ষে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।”

​বাংলাদেশ সরকার, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নদীভাঙন রোধে জিওবাগ ও স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণসহ চরাঞ্চলের মানুষের জীবনে স্থায়িত্ব ফেরাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চরবাসী।

সৌদি রুটে ১৭৪ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিত, ভোগান্তিতে ২৩ হাজারের বেশি যাত্রী

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

দৈনিক আমাদের খবর একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। দেশ-বিদেশের সর্বশেষ সংবাদ ও জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নির্ভুলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Trulli

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই:চরাঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়নের আকুতি চরবাসীর