পাবনার ফরিদপুরে খোলা পানিতে খাঁচায় উচ্চ ঘনত্বে মাছ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। অল্প জায়গায় তুলনামূলক বেশি মাছ উৎপাদনের সুযোগ থাকায় এ পদ্ধতিকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন স্থানীয় চাষিরা। তবে সরকারি ঋণ, আর্থিক সহায়তার অভাব এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকায় এ খাতের কাঙ্ক্ষিত সম্প্রসারণ সম্ভব হচ্ছে না বলে তারা জানান। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া গুমানি নদীর নারায়ণপুর পয়েন্টের দুই পাশে সারি সারি ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩০০টি খাঁচায় মাছের চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রতনপুর গ্রামেও রয়েছে আরও ১০টি খাঁচা।
চাষিরা জানান,বাঁশ, জাল ও ভাসমান ড্রাম ব্যবহার করে এসব খাঁচা তৈরি করা হয়। ২০ বাই ১০ ফুট আয়তনের একটি খাঁচা তৈরি করতে আনুমানিক ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। পোনা ছাড়ার পর বাজারজাত করতে সময় লাগে প্রায় ৪-৫ মাস। বাজারদর ও উৎপাদন ব্যয় অনুকূলে থাকলে একটি খাঁচা থেকে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। বর্তমানে নদীটিতে প্রধানত মনোসেক্স তেলাপিয়া চাষ করা হচ্ছে।
খাঁচায় ভাসমান পদ্ধতিতে মাছ চাষের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা মো: কামরুল ইসলাম বলেন, “পুকুরের তুলনায় এখানে প্রায় ১০০ গুণ বেশি ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। একটি খাঁচা থেকে ১০ থেকে ১৫ মণ মাছ পাওয়া সম্ভব। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হতো।”
তবে নদীর পানি দূষণ ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে যাওয়াকে এ চাষের বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা। তারা জানান, নদীতে বাঁধ দেওয়ার কারণে পানি প্রবাহ কমে গেলে বা পার্শ্ববর্তী ডেমরা এলাকার বর্জ্য ও দূষিত পানি নদীতে মিশলে মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ২০১১ সাল থেকে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হলেও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত সহযোগিতা ও তদারকি না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে চাষিদের। সংবাদ প্রকাশের খাতিরে ফরিদপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সীর ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
পরবর্তীতে খুদেবার্তা পাঠালেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ, পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং মাছ চাষিদের সঠিক নিরাপত্তা প্রদান করা গেলে এ অঞ্চলে খাঁচায় মাছ চাষ ব্যাপক রূপ নেবে। এতে যেমন জাতীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানেরও বড় সুযোগ সৃষ্টি হবে।












