বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকার আশুলিয়ায় ৬টি লাশ স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনার সেই বহুল আলোচিত পুলিশ ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘ দিন আড়ালে থাকার পর বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকা থেকে গাড়িটি লোকচক্ষুর সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,সকালে বাইপাইল ত্রিমোড় এলাকায় আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেলের (ভূমি) সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল্লাহ আকনের নেতৃত্বে একটি জমি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে সেখানে থাকা পুলিশের একটি অস্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন খালি করার কাজ শুরু হলে এতদিন আড়ালে পড়ে থাকা পোড়া ভ্যানটি উন্মোচিত হয়।
ভয়াল ও নির্মম সেই ঘটনার সাক্ষী গাড়িটি উদ্ধারের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বাইপাইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন। ছাত্র-জনতা এই ভ্যানটিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাক্ষী এবং বিগত সরকারের শাসনামলে পুলিশি নির্মমতার স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি জানান।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক আবিদুল আফিফ বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে আমাদের ভাইদের ওপর বর্বর নির্যাতন চালিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই নারকীয় ঘটনার পর থেকেই আমরা এই গাড়িটির খোঁজ করছিলাম। আমাদের একটাই দাবি—পুলিশি বর্বরতার এই নজির ও স্মৃতিকে বিনষ্ট না করে অবিলম্বে ‘জুলাই জাদুঘরে’ সংরক্ষণ করা হোক।”
উল্লেখ্য,২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিনে আশুলিয়া থানার সামনে একাধিক গুলিবিদ্ধ লাশ এবং অন্তত একজন জীবিত আন্দোলনকারীকে পুলিশ ভ্যানে স্তূপ করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল, যা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।














