মহামান্য হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন এবং সরকারি নির্দেশনার পরোয়া না করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়া চরে যমুনা নদী থেকে প্রকাশ্যেই চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। সশস্ত্র পাহারায় একাধিক ড্রেজার বসিয়ে বালু তোলার ফলে একদিকে যেমন মারাত্মক নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার ও শত শত পরিবার, অন্যদিকে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় মাঠ প্রশাসন ও নৌপুলিশের ভূমিকা নিয়ে।
সরেজমিনে (৩ অক্টোবর) আলোকদিয়ার চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়,জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার এবং জনবসতিসংলগ্ন যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সকাল ৬ থেকে অন্তত আটটি ড্রেজার দিয়ে অবিরত বালু তোলা হচ্ছে। সেখান থেকে বড় বড় বাল্কহেডে লোড করে সে বালু পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন গন্তব্যে। দিন-রাত সমানতালে এ প্রক্রিয়া চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী ও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালী ও সশস্ত্র একটি চক্রের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কারবার পরিচালিত হচ্ছে। বাধা দিতে গেলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন এবং একাধিক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেও কোনো কাজ হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এলাকাটিতে সব ধরনের বালু উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তবে উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশনা কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে; বাস্তবে যমুনার বুকে ড্রেজারের গর্জন থামেনি একদিনের জন্যও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিবালয় উপজেলা প্রশাসন মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালালেও রহস্যজনকভাবে সেই তথ্য আগেই পেয়ে যায় বালুখেকোরা। অভিযানকারী দল পৌঁছানোর আগেই সটে পড়ে ড্রেজার মালিক ও জড়িত ব্যক্তিরা। ফলে এসব অভিযান কেবল আনুষ্ঠানিকতায় রূপ নিয়েছে। একইসাথে নদীপথে দিন-রাত ড্রেজার ও বাল্কহেড চলাচল করলেও ফরিদপুর জোন নৌপুলিশের দৃশ্যমান কোনো কঠোর অবস্থান না থাকায় তাদের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে জনমনে।
জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জাতীয় গ্রিডের মতো স্পর্শকাতর অবকাঠামো এবং নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় কেবল সাময়িক অভিযান নয়, বরং স্থায়ী ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন। হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে এবং প্রভাবশালী চক্রটির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।



















