হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে যমুনা নদীর আলোকাদিয়া চর এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারসংলগ্ন সংবেদনশীল এলাকায় একযোগে অন্তত সাতটি ড্রেজার বসিয়ে বালু চুরির উৎসব চলছে। এতে করে একদিকে নদীভাঙন যেমন চরম আকার ধারণ করছে, অন্যদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে সরেজমিনে আলোকাদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একাধিক শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে নির্বিচারে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। বালু দস্যুদের এই লাগামহীন তৎপরতায় এলাকার বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, যে স্থান থেকে বালু তোলা হচ্ছে তার একেবারেই কাছে অবস্থিত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার। এভাবে মূল ভিত্তির কাছাকাছি স্থান থেকে বালু তোলা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় টাওয়ার দুটি ধসে পড়ে সারা দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, নদীভাঙন রক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট এলাকায় বালু উত্তোলন অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। তবে আদালতের স্পষ্ট আদেশ সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চলতে থাকায় স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান জানান, তথ্যসূত্রে তিনি বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এতে কারা জড়িত তা খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলেও জানান তিনি।
তবে প্রশাসনের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যেখানে সাত-সাতটি ড্রেজার চালিয়ে দিনদুপুরে বালু লুট হচ্ছে, সেখানে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। শুধু লোকদেখানো আশ্বাস না দিয়ে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার বাজেয়াপ্ত এবং জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী।














