সর্বশেষ

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ (১ জুলাই) সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে সরকার ও বিদেশি কূটনীতিকরা হলি আর্টিজান বেকারি হামলার দশম বার্ষিকীতে নিহতদের স্মরণ করে শান্তি, সহনশীলতা ও মানবতার আদর্শ সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাইয়ের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শামা ওবায়েদ বলেন- রাজনৈতিক, ধর্মীয়, আদর্শিক বা অন্য কোনো কারণেই সন্ত্রাসবাদকে কখনো ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সর্বক্ষেত্রে মোকাবিলায় আমাদের সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, এ ধরনের শক্তির বাংলাদেশে কোনো স্থান নেই এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তাদের কখনোই সুযোগ দেওয়া হবে না। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস উগ্রবাদের সব ধরনের রূপ ও প্রকাশের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি সরকারের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ সরকার, ভারত, জাপান, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়ে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ওই হামলায় ইতালির নয়জন নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হন। এ সময় বক্তারা সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করেন এবং গত এক দশকে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই সন্ত্রাসীরা ঢাকার গুলশান কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায়।

প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি সংকটের সময় ২০ জন জিম্মি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৪ জন নিহত হন। এ ঘটনায় ছয় হামলাকারীও নিহত হয়। এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচিত। এই মর্মান্তিক ঘটনার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ (১ জুলাই) বিকালে নিজের বাসভবনে স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করেন বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন এ ঘটনা ভুলে না যাই… এমন ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে।’ তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইতালির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সভ্যতার মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে নিরাপদ, উন্মুক্ত ও সংহত সমাজ গড়ে তুলতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইতালি রাষ্ট্রদূত।

দুর্নীতির মামলায় রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

বাংলাদেশে ইতালি দূতাবাসের কনস্যুলার শাখার প্রধান লরা স্কেলা অনুষ্ঠানের সূচনা করেন এবং নিহতদের নাম পাঠ করেন। পরে তাদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশে কূটনৈতিক কোরের ডিন ও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনইচি সাইদা, ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত উপপ্রধান আলবার্ট সিয়া এবং বাংলাদেশ পুলিশের একজন প্রতিনিধি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

নিহতদের স্মরণে উপস্থিত সবাই এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদমুক্ত নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

তাদের স্মৃতি ঘৃণা ও সংঘাতের বিরুদ্ধে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকুক। সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও মানবতার যে মূল্যবোধের তারা স্থায়ী সাক্ষ্য হয়ে আছেন, আমরা যেন তা সমুন্নত রাখতে পারি।’ সরকারের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা গভীর শোকের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘দশ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু সেই রাতের ক্ষত এখনো আমাদের জাতীয় চেতনা থেকে মুছে যায়নি। ২০১৬ সালের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে সংঘটিত মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার ছায়া আজও আমাদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে। এটি আমাদের জাতির ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়।’ তিনি বলেন, হামলাটি ছিল আশা, মানবতা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের অভিন্ন মূল্যবোধকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অপচেষ্টা।

গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থ বিল-২০২৬ পাস

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নাগরিক এবং ভারত, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আজ আমরা তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আমরা শুধু তাদের স্মৃতিকেই নয়; তাদের সাহস, দৃঢ়তা ও সংহতিকেও সম্মান জানাই।’ হলি আর্টিজান হামলাকে মানবতার ওপর নির্মম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি ছিল আমাদের প্রাণবন্ত, সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজে ভয়, ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টি করার পরিকল্পিত চেষ্টা। কিন্তু এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখেও বাংলাদেশ অসাধারণ দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।’ তিনি বলেন, এ ঘটনা জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি এবং অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় সম্মিলিত সতর্কতার গুরুত্ব আজও স্মরণ করিয়ে দেয়। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সেই দিনের বেদনাদায়ক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সংহতি ও সম্মিলিত সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি যোগ করেন, এরপর থেকে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলায় সরকার একটি ‘সমগ্র সরকার’ ও ‘সমগ্র সমাজ’ভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করেছে। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নারী ও তরুণ, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টায় অবদান রেখে শান্তি, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।’

ADVERTISEMENT

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত


সম্পাদক ও প্রকাশক : মাে:শফিকুল ইসলাম

কার্যালয় : ভাদাইল, ডিইপিজেড রোড, আশুলিয়া, সাভার, ঢাকা-১৩৪৯

যোগাযোগ: +৮৮০ ১৯১ ১৬৩ ০৮১০
ই-মেইল : dailyamaderkhobor2018@gmail.com

দৈনিক আমাদের খবর বাংলাদেশের একটি বাংলা ভাষার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে দৈনিক আমাদের খবর, অনলাইন নিউজ পোর্টালটি সব ধরনের খবর প্রকাশ করে আসছে। বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রচারিত অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলির মধ্যে এটি একটি।

ADVERTISEMENT
×

নিউজ কার্ড প্রিভিউ (HTML Version)

News Image
০১ জুলাই ২০২৬
Trulli

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করল বাংলাদেশ