ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞায় কোনো দেশ অংশ নিলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, কোনো রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ অংশ নিলে তার কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে তেহরান।
রেজাইয়ের হুঁশিয়ারি, এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল পরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে ইরান। তার ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধে কোনো দেশ যুক্ত হলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে ‘এক ফোঁটা তেলও’ বের হতে দেওয়া হবে না।ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের যুদ্ধকৌশল ও কূটনৈতিক অবস্থানও বদলাতে পারে। তার অভিযোগ, সামরিকভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এখন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখার চেষ্টা করছে।
এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা স্থগিত রয়েছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি বলেছেন, ছয় মাস ধরে চলা বিরোধের অবসানের সময় এসেছে।এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রভাব নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রেজাই। তার দাবি, এ ঘটনার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আগ্রহ বেড়েছে।
তার যুক্তি, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি মেনে চলার পরও যদি কোনো দেশ সামরিক হামলা থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে অন্য দেশগুলোর মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক—তাহলে কেন তারা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করবে না?রেজাই আরও বলেন, ইরান যখন পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা এনপিটির সদস্য ছিল এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে সহযোগিতা করছিল, তখনও দেশটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।তার মতে, এ কারণে অনেক দেশের কাছে এনপিটি কিংবা আইএইএর সদস্যপদকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার প্রবণতা দুর্বল হয়েছে। এর ফলে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়তে পারে।














