বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা, গুলি চালিয়ে হত্যা এবং দেশব্যাপী নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রাজীব ওরফে ‘কানকাটা রাজীব’কে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের গেন্ডা আনন্দপুর সিটিলেন এলাকায় সাভার মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরিচয় ও পেছনের পটভূমি:গ্রেপ্তারকৃত কানকাটা রাজীব সাভারের গেন্ডা আনন্দপুর এলাকার বাসিন্দা, সাভার পৌর কৃষক লীগের সভাপতি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক কাউন্সিলর আয়নাল হক গেদুর ছেলে। তিনি সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বৃহত্তর ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। রাজীব সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পলাতক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং সাভার সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম রুবেলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
আত্মগোপন ও নাশকতার অভিযোগ:পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কানকাটা রাজীব ও তার বাবা আয়নাল হক গেদু আত্মগোপনে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এক স্থানীয় নেতার আশ্রয়ে তাদের পরিচালিত একটি রাজনৈতিক অফিসকে মোটরপার্টসের দোকানের আড়ালে ব্যবহার করে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় অবৈধ ঝটিকা মিছিল, গাড়ি পোড়ানোসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। সম্প্রতি সাভার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একাধিক মামলার তদন্তে রাজীব ও তার বাবার সরকারবিরোধী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পায় গোয়েন্দারা।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ:গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান ভুঁইয়া ও আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইবনে ফরহাদ জানান, নির্ভরযোগ্য সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পেশাদার অপরাধীদের দিয়ে সাভার-আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম জানান:”গ্রেপ্তারকৃত কানকাটা রাজীবের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরাসরি হামলা, গুলিবর্ষণ ও হত্যাসহ নাশকতার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তাকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হবে।”
উল্লেখ্য,গত জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনের সময় সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের হামলায় শতাধিক ছাত্র-জনতা নিহত হন এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হন।












