শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত শিখনফল অর্জন এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি।
তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক যত্ন এবং ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। পরিবর্তিত বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকেরাই হবেন পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টায় টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণে ‘শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুত করা একটি ‘কনসেপ্ট পেপার’ গ্রহণ করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় থাকা সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে জেলার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব হবে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন ও সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানুসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, মনন ও নৈতিকতার বিকাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুশৃঙ্খল ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য শিক্ষক, অভিভাবক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সভায় টাঙ্গাইল জেলার শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে প্রণীত পরিকল্পনা ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাবিদ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
















