হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা সত্ত্বেও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর আলোকাদিয়া চর এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের টাওয়ারসংলগ্ন এলাকা থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু লুটের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর আলোকাদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের সংলগ্ন অংশ থেকে অন্তত আটটি শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রভাবশালী একটি চক্রের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঝুঁকিতে জাতীয় অবকাঠামো ও জনপদ
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত ও নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। এর ফলে নদীপারের বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, জাতীয় গ্রিডের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের আশেপাশ থেকেই বালু উত্তোলনের ফলে শুধু স্থানীয় জননিরাপত্তাই নয়, বরং দেশের জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোও আজ চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আদালতের আদেশ অমান্য:এর আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সকল প্রকার বালু উত্তোলন বন্ধ এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে আদালতের এমন কঠোর নির্দেশনার পরও প্রকাশ্য দিবালোকে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলনের ঘটনা ঘটায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমের তথ্যসূত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অবস্থান সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি
অবিলম্বে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা, অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারগুলো জব্দ এবং এর সাথে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের নদীভাঙনে গোটা জনপদ বিলীন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে।

















