মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীবেষ্টিত দুর্গম আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের আশপাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ওই এলাকায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই একাধিক ড্রেজার বসিয়ে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে একটি প্রভাবশালী বালু উত্তোলনকারী চক্র।
সরেজমিনে গিয়ে আজ রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ৭টা ১০ মিনিটের দিকে জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৭ টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এসব ড্রেজার পরিচালনা করে আসছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর, ফসলি জমি, বসতভিটা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলেও তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য,জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ারের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর আশপাশে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। তাদের অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের পাশাপাশি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই কথিত বালু উত্তোলনকারী চক্র দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের প্রশ্ন—অবৈধ ড্রেজারগুলো যদি প্রকাশ্যেই জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে পরিচালিত হয়, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি ও অভিযান কোথায়?
অন্যদিকে,মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলা হলেও আলোকদিয়া চর এলাকায় বাস্তব চিত্র তার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
আইনগতভাবে নদী,সরকারি জমি ও পরিবেশের ক্ষতি করে অনুমোদনহীনভাবে বালু উত্তোলন গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বিষয়টি শুধু অবৈধ বালু উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আসে।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা, ড্রেজার জব্দ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের টাওয়ারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর এবং ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ,নীতিগত ঘোষণা থাকলেও আলোকদিয়া চরের বাস্তব পরিস্থিতিতে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কী ধরনের ব্যবস্থা নেয় এবং জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হয়—এখন সেটিই দেখার বিষয়।















