সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সহিংসতায় উসকানি এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার অভিযোগে দেশটির সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমদ বদরুদ্দিন হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হাসুন।
গত বছরের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চলতি বছরের জুনে তার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
রায়ে বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, হাসুন ও তার অধীন সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আসাদ সরকারের সামরিক অভিযানের ধর্মীয় বৈধতা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী ব্যারেল বোমা হামলা, ইদলিবের বাসিন্দাদের বাড়িঘর ধ্বংস এবং পূর্ব আলেপ্পো থেকে সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনে সামরিক বাহিনীকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেন।
আদালত হত্যাকাণ্ডে উসকানির দায়ে তাকে ২০ বছর এবং সহিংসতা দীর্ঘায়িত করার দায়ে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপরাধের গুরুতরতার কারণে হাসুন কোনো সাধারণ বা বিশেষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পাবেন না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসাদ পরিবারের বাইরে কোনো শীর্ষস্থানীয় সুন্নি ধর্মীয় ব্যক্তির সাজা হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে জানা গেছে।












