মৌসুমে যে কাঁঠাল ১০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে, সেই একই কাঁঠালের দাম এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকায়। গাজীপুরের শ্রীপুরে মৌসুম শেষ হওয়ার পর কমে গেছে সরবরাহ, আর তার প্রভাব পড়েছে বাজারদরে।বুধবার শ্রীপুরের বরমী বাজারে আটটি কাঁঠাল নিয়ে বসেছিলেন পাইকার বিল্লাল হোসেন। তিনি আকার ও জাতভেদে প্রতিটি কাঁঠাল ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করছেন। তার ভাষ্য, মৌসুমে যে কাঁঠাল এখন ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটির দাম ১০ টাকাও ছিল না।শ্রীপুরের জৈনাবাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা চৌরাস্তা ঘুরে দেখা গেছে, মৌসুমের সময়ের মতো বাজারে আর কাঁঠালের বড় বড় স্তূপ নেই। কোথাও দু-একটি কাঁঠাল দেখা গেলেও দাম শুনে অনেক ক্রেতাই বিস্মিত হচ্ছেন।
ব্যবসায়ীদের মতে, মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় বাজারে কাঁঠালের জোগান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাছের শেষ দিকের ফল সংগ্রহ করতেও কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বেশি খরচ হচ্ছে। পাশাপাশি শেষ মৌসুমের কাঁঠাল স্বাদে ভালো হওয়ায় এর চাহিদাও রয়েছে।ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে পাকে না। কোনো কোনো জাত মৌসুমের শুরুতে পাওয়া যায়, আবার কিছু জাতের ফলন আসে একেবারে শেষ দিকে। ফলে শেষ দিকের ফল বাজারে কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়।
জৈনাবাজারের পাইকার সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে স্থানীয় বাজারে কাঁঠালের সরবরাহ খুবই সীমিত। শেষ মৌসুমের কাঁঠাল ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট বাজারে পাঠালে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত কিছু আগাম ও ১২ মাসি জাতের কাঁঠালের চারা এখন নার্সারিতে পাওয়া যাচ্ছে। সঠিক জাত নির্বাচন করে চাষ করতে পারলে মৌসুমের বাইরেও কৃষক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।












