পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দিন-রাত ড্রেজার বসিয়ে অবাধে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে নদীর স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতি বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি চরম নদীভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছেন নদী তীরবর্তী হাজারও মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) নদী তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে অবৈধ বালু উত্তোলনের এই চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশাসনের অভিযানের তথ্য আগেই চক্রটির কাছে পৌঁছে যায়। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছানোর আগেই চক্রটি ড্রেজার ও বালুবাহী বাল্কহেড সরিয়ে সটকে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পদ্মার চরতারাপুর, কলাবাগান, নিউচর পূর্বপাড়া ও বেলতলাসহ অন্তত পাঁচ-ছয়টি পয়েন্টে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বালু তোলা হচ্ছে। উত্তোলিত বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশাল আকৃতির বাল্কহেড।
অভিযোগে বলা হয়, একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী চক্র জোতকাকুরিয়া-কলাবাগান চর নদীপথ, গোহাইলবাড়ী, ভাদুরিয়াডাঙ্গী, নিউচর পূর্বপাড়া, চর ভবানীপুর ও চরতারাপুর সীমান্তবর্তী নদী এলাকায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে নদীটির একাংশ কার্যত দখল করে নিয়েছে। অবৈধ এই বালু মহাল পাহারা দিতে চরাঞ্চলে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের স্পিডবোটে মহড়া দিতেও দেখা যায় বলে দাবি একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর।
চরাঞ্চলে নদীভাঙন আতঙ্ক ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ:পদ্মা নদী থেকে অনবরত বালু উত্তোলনের ফলে চরাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ভিটেমাটি ও আবাদি জমি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
অভিযানের আগে তথ্য ফাস হওয়া প্রসঙ্গে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “প্রশাসনের গাড়ি ও ট্রলার রওয়ানা দেওয়ার খবর পেতেই চক্রটি স্পিডবোট ও ড্রেজার সরিয়ে নেয়। চরের ভৌগোলিক দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে তারা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে।”
চরাঞ্চলবাসীর জোর দাবি, সাময়িক অভিযানের মধ্য সীমাবদ্ধ না থেকে অনুমোদনহীন এই ড্রেজারগুলো স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে এবং নদী ধ্বংসকারী এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামারা তাসবিহা জানান, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ইতোমধ্যে চরাঞ্চলে ঝটিকা অভিযান চালানো হয়েছে এবং পুরো এলাকা কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
তবে চরাঞ্চলের ভৌগোলিক জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,”এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও তদারকি করতে গিয়ে প্রশাসনিক কিছু চ্যালেঞ্জ ও জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”
ঝটিকা অভিযানের পাশাপাশি দুর্গম এই চরাঞ্চলে স্থায়ী নজরদারি ও নিয়মিত টহল জোরদার করে নদী রক্ষা ও তীরবর্তী মানুষের সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ভুক্তভোগীদের।
















