আশুলিয়া,সাভার: জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে আশুলিয়ার কাঠগড়া হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কাঠগড়া হাই স্কুল এন্ড কলেজ এবং ধনঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত‘বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে ট্রফি ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর অতিথিবৃন্দ বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে যৌথভাবে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী পর্বের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসময় বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও আকর্ষণীয় ডিসপ্লে প্রদর্শন করে,যা উপস্থিত দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ঢাকা -১৯ আসনের সাংসদ ডা.দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন (বাবু) এমপি ও স্থানীয় বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং সমাজসেবকগণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাঠগড়া হাই স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ এবং ধনঞ্জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, “আজকের শিশু-কিশোররাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কারিগর। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। দুইটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন,সহিংসতা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে মাঠে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের এই যৌথ আয়োজন প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।”
প্রতিযোগিতায় মোট ৫০টিরও বেশি ইভেন্টে দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে দৌড় প্রতিযোগিতা,দীর্ঘ লাফ,উচ্চ লাফ, যেমন খুশি তেমন সাজো এবং প্রাথমিক শাখার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা বিশেষ খেলাগুলো ছিল বেশ আকর্ষণীয়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিভিন্ন বিভাগে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ট্রফি ও আকর্ষণীয় উপহার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সেরা পারফর্মকারী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বছরের সেরা ক্রীড়াবিদকেও বিশেষ পুরস্কৃত করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী পর্ব শেষে দুই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিপুল উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
















