রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে নভেম্বরেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা ও পরবর্তী ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ খুলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাবনার রূপপুরে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে চলতি বছরের মে মাসে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মধ্যে পারমাণবিক বিক্রিয়া থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। তবে নিরাপত্তা ভাল্বের ত্রুটির কারণে কার্যক্রমে বিলম্ব ঘটে।
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে উচ্চচাপে দুই দফা পরীক্ষা সফল হওয়ার পর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে ১১ অক্টোবর চুল্লিতে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী ধাপগুলো নির্ধারিত নিয়মে সম্পন্ন হলে চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ
পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম পরমাণুর বিভাজনের ফলে তাপ উৎপন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে এই বিক্রিয়ার বিভিন্ন সূচক ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর উৎপন্ন তাপের সাহায্যে পানি থেকে বাষ্প তৈরি করা হবে। উচ্চচাপের সেই বাষ্প টারবাইন ঘোরাবে, আর টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপন্ন হবে বিদ্যুৎ।
প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। এর প্রায় ৯০ শতাংশ রাশিয়ার ঋণ থেকে এসেছে।
দুটি ইউনিট মিলিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। পুরোপুরি চালু হলে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে ভূমিকা রাখবে কেন্দ্রটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীর্ঘ মেয়াদে প্রায় ৬০ বছর বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।
বিশাল বিনিয়োগের এই প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত উৎপাদনে যাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে পরীক্ষামূলক উৎপাদন থেকে জাতীয় গ্রিডে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরীক্ষা ও অনুমোদন সম্পন্ন হওয়া জরুরি।













