শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির বাইরে বাড়তি কোনো ‘অফ ডে’ রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করে শিক্ষার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।শুক্রবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান বাড়াতে শুধু শিক্ষকদের নয়, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাই আন্তরিকভাবে কাজ করলে এক বছরের মধ্যেই শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক সময় দুপুরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা নেই। তাদের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কথা জানানো হয়। তাই শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালে কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা বিকেল ৪টার আগে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
চাকরিতে যোগদানের সময় সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত ছুটির সুযোগ ছিল না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ধীরে ধীরে একটি অনিয়ম তৈরি হয়েছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।পাঠদান শেষে যেসব শিক্ষকের ক্লাস থাকবে না, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক বা অন্যান্য দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, সরকারি কর্মকর্তারা যেমন ছুটির বাইরে দায়িত্ব পালন করেন, শিক্ষকদেরও একইভাবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে দায়িত্বশীল হতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এসব প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রয়োজনে এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীনসহ প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির লিফলেট ও প্রচারপত্র তুলে দেওয়া হয়। এ সময় মন্ত্রীর লেখা ‘জাগো বাহে তিস্তা’ বইও বিতরণ করা হয়।














