ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে নির্দিষ্ট সময়ের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নিয়মিত সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি মীর শাহে আলম।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক ও রাপা প্লাজা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।পরিদর্শনের সময় সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল, পরিচ্ছন্নতার অবস্থা এবং আশপাশের পরিবেশ খতিয়ে দেখেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতির খোঁজ নেন।
এর আগে সেচ ভবনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন তিনি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু কয়েক মাস অভিযান চালালে হবে না। সারা বছর বাড়িঘর, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় সম্ভাব্য এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে হবে।তার মতে, বর্তমান কর্মসূচির লক্ষ্য কেবল মশা নিধন নয়। পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে যেন নতুন করে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বড় উদ্দেশ্য।
বাড়িঘর, নির্মাণাধীন ভবন, সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের স্থাপনার আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি এডিস মশার লার্ভা তৈরির বড় ঝুঁকি বলে উল্লেখ করেন। ড্রাম, বালতি, নির্মাণসামগ্রী, গর্ত বা অন্য কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার জন্য ভবন মালিক, নির্মাতা ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সক্ষমতা ও পরিধি বাড়ানোর কাজও চলছে। সতর্ক করার পরও কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বে অবহেলা করে এডিস মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি করলে প্রচলিত আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড, প্রয়োজনে কারাদণ্ড দেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে শাস্তির চেয়ে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতাকেই বেশি গুরুত্ব দেন শাহে আলম।














