দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও এসব যান থেকে অবৈধভাবে ভাড়া ও চার্জ আদায়ের কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।সোমবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে জরুরি জনস্বার্থ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে সংরক্ষিত নারী আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু নোটিশটি উত্থাপন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজি বাইকসহ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান রয়েছে আনুমানিক ৫০ লাখ থেকে ৮০ লাখ। বিপুল এই সংখ্যার বিপরীতে অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি।ঢাকার চিত্র আরও ভিন্ন। রাজধানীতে ৪৮ হাজারের বেশি অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে সংসদে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজি বাইক দেশের শহর ও গ্রামের পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে দ্রুত এবং অনেক ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণহীন সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ, সড়ক নিরাপত্তা, যানজট ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে।সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান চার্জ করতে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি প্রয়োজন হতে পারে।
একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যান চার্জ দেওয়ার কারণে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসিক বা অনুমোদিত বিদ্যুৎ সংযোগ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার এবং ট্রান্সফরমার ও বিতরণ লাইনের ওপর বাড়তি চাপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি করছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই যানবাহনগুলোর অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার শুধু রাজস্ব ক্ষতিই নয়, দেশের বিদ্যুৎ ও সড়ক ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। তাই ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান খাতকে আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে।











