হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীতে থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। উপজেলার আলোকদিয়া চর এলাকায় প্রভাবশালী একটি চক্র নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করে চলেছে। এতে করে তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়ে একের পর এক বসতভিটা ও হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি বিলীন হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোও চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সরেজমিনে আলোকদিয়া চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারের কাছেই একাধিক ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত প্রকাশ্যে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী চক্রটি ১২টি ড্রেজার ও সারি সারি বাল্কহেড ব্যবহার করে যমুনা নদী থেকে বালু পরিবহন করছে। নদীর তীর ঘেঁষে সমানতালে চলছে বালু তোলা ও খালাসের কাজ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন মাঝে মাঝে লোকদেখানো বা সাময়িক অভিযান চালালেও নৌপুলিশের নজরদারিতে ঢিলেঢালা ভাব ও দুর্বলতার সুযোগে দুষ্কৃতকারীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে অভিযান শেষ হতেই তারা দ্বিগুণ উৎসাহে আবারও বালু উত্তোলনে মেতে ওঠে। নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এসব ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করা না গেলে এবং বালুদস্যুদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা না নিলে গোটা এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে।
যোগাযোগ করা হলে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত অভিযান চালুর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও নদীর নিরাপত্তা জোরদারে নৌপুলিশকে সার্বক্ষণিক টহল ও কড়া নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ না থেকে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আলোকদিয়া চরে অবিলম্বে কঠোর ও দৃশ্যমান যৌথ অভিযান প্রয়োজন। যমুনার করাল গ্রাস থেকে নদীতীরবর্তী জনবসতি, ফসলি জমি এবং জাতীয় সম্পদ বিদ্যুৎ সঞ্চালন টাওয়ার রক্ষায় অনতিবিলম্বে স্থায়ী নজরদারির জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।















